মনের রোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা এবং এর থেকে মুক্তির সহজ উপায়

Some essential words about mental illness

মনের রোগ নিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু কথাঃ

শরীরের রোগের মতো মনেরও রোগ আছে আর রোগ হলে তার চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়। মন দেখা যায় না বলে হয়ত মনের রোগের প্রতি অবহেলা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু মন হলো বাতাসের মতো,না দেখা গেলেও তার উপস্থিতি ছাড়া কোনো প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। মন ছাড়া দেহ ঠিক জড় পদার্থের মতো। তাই মনের প্রতি মনোযোগী হতে হবে এবং মনের রোগকে গুরুত্ব দিয়ে যথাপোযুক্ত চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।
যে কোন রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া নিয়ে আমাদের মধ্যে একটা অলসতা কাজ করে। আর মনের কোনো বিষয় হলে তো কথাই নেই; মনের আবার রোগ কিসের? কিন্তু যে কারো মনের মধ্যে কিছু সাধারন নেতিবাচক চিন্তা ও অনুভূতি হতে পারে, যেমন- মন খারাপ হওয়া, টেনশন করা, ভয় পাওয়া, অস্থির লাগা, রাগ ও জেদ করা, একাকীত্ব অনুভব করা, মরে যেতে ইচ্ছে হওয়া, কারো সাথে কথা না বলা, একা থাকতে চাওয়া ইত্যাদি। বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের ধারণা, “ওসব কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে” এসব বলে আর গুরুত্ব দেয় না মনের বিষয়টাকে।

মনের রোগ এখনো উপেক্ষিতঃ

কথাটা ভুল কিছু নয়, আসলেই ঠিক হয়ে যাবে; এগুলো নিয়ে সঠিকভাবে সমাধানের জন্য কাজ করলে কিন্তু “ওসব কিছুই না” এই কথাটা ঠিক। অনেকক্ষেত্রে মনের এই ভাবনা ও অনুভূতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং প্রকট হতে থাকে যা ব্যাক্তির দৈনন্দিন কার্যাবলীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ব্যক্তির আশেপাশের লোকজন হয়তো বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিপূর্ণ জানতে পারে না, কিন্তু একটু মনোযোগ এর সাথে পর্যবেক্ষণ করলেই ব্যক্তির আচরণের পরিবর্তন দেখা যায় এবং জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থার পরিবর্তন বোঝা যায়।
কোনো না কোনো কারণে মানুষের মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দেয় সেই কারণগুলো সঠিকভাবে নির্ণয় করে তা বিশ্লেষণ করলে জানা যাবে বিষয়টি কতটা গুরুতর এবং সে অনুযায়ী তাকে সহযোগিতা করলে হয়তো অল্পতেই ব্যক্তির সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে।
মনের সমস্যার কারণ হিসাবে মানুষের কিছু প্রচলিত বক্তব্য হলো-- অভিশাপ লেগেছে, অথবা ভান করছে, বাতাস লেগেছে, তাবিজ করেছে, বদ নজর পড়েছে, আছর পড়েছে, মাথা গরম হয়েছে, জিন-ভূতে ধরেছে, পাগলামিতে ধরেছে ইত্যাদি। আর এসব সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তাদের মনগড়া মতবাদ হলো দুদিন পরেই ঠিক হয়ে যাবে, বড় হলেই ঠিক হয়ে যাবে, শাসন করলেই ঠিক হয়ে যাবে, কিছুদিন দেখা যাক, বিয়ে দিলেই ঠিক হয়ে যাবে, চিকিৎসার নামে শুধু শুধু পয়সা নষ্ট, পাগলের চিকিৎসা নাই ইত্যাদি।
অবহেলা ও অপেক্ষা না করে সমস্যা বা রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সাথে পরামর্শ করে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। এসব কথা বলে মনের সমস্যাকে অবহেলা করা হয় এবং রোগ নির্ণয় করা থেকে বিরত থাকা হয়। সমস্যা যখন প্রকট আকার ধারণ করে তখন ঝাড়ফুঁক, তাবিজ, পানি পড়া, মন্ত্র ইত্যাদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগমুক্তি বা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে থাকেন অনেকে। আবার কেউ কেউ সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে হাসপাতলে চিকিৎসা সেবার শরণাপন্ন হয়ে থাকেন।
ততদিনে হয়তো রোগের মাত্রা এতটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যে চিকিৎসা করাও জটিল হয়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সুতরাং, অবহেলা ও অপেক্ষা না করে সমস্যা বা রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সাথে পরামর্শ করে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরী। এতে দ্রুত রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা অপেক্ষাকৃত সহজ হয়।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url