হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)-এর শাহাদাত বরণ

হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)-এর শাহাদাত বরণ

হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)-এর শাহাদাত বরণঃ

হযরত আলী (রাঃ) এবং মা ফাতেমা (রাঃ)-এর জ্যেষ্ঠ সন্তান হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) মা ফাতেমা (রাঃ)-এর কোলে আসেন। হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) জন্ম গ্রহণ করার পর তার নানা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার নাম রাখেন “আল হাসান” এবং ইসলামী নিয়মে আকিকা করেন।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বড় নাতি হিসাবে বাল্যকালে অনেক স্নেহ প্রাপ্ত হন হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মৃত্যুর পর উপযুক্ত বয়সে হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) একজন অতি নম্র, ভদ্র, দয়ালু, বিচক্ষণ ও সাহসী পুরুষ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
বিশেষত ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রাঃ) নিজ গৃহে বিপক্ষ শক্তির আকস্মিক আক্রমণের শিকার হলে হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) তা প্রতিহত করতে সচেষ্ট হন। পরবর্তী বা চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রাঃ)-এর শাসনামলে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে শাফিন, নাহরাওয়ান ও জামালের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং বীরত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
৬৬১ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহী খারাজীদের চক্রান্তে বিষ মাখানো তরবারির আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন ইসলামের চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রাঃ)। পিতা হযরত আলী (রাঃ)-এর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পর হযরত আলী (রাঃ) এবং মা ফাতেমা (রাঃ)-এর জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসাবে হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর অনুকরণে স্থানীয় কুফা মসজিদে এক আবেগময় ভাষণ প্রদান করেন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর উত্তরসূরিদের খলিফা হওয়ার যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এ সময় উপস্থিত সবার সিদ্ধান্তে ইসলামের পঞ্চম খলিফা নির্বাচিত হন হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)। তবে তা মেনে নিতে পারেননি হযরত আলী (রাঃ)-এর পারিবারিক শত্রু মুয়াবিয়া। পরবর্তীতে সুয়াইরিয়া চিঠির মাধ্যমে এবং সমাবেশ ঘটিয়ে হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)-কে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়।
প্রতিউত্তরে হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন এবং মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। কিন্তু উভয়ের মধ্যে তিক্ততা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছে যে, ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মাথায় হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) ক্ষমতা ছেড়ে দেন। এরপর তিনি মদিনায় ফিরে যান এবং একান্ত সাদামাটা জীবন যাপন করতে থাকেন।
তারপরও শত্রুরা তার পিছু ছাড়েনি। ৬৭০ খ্রিস্টাব্দে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করা হয় হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)-কে। হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) শাহাদাত বরণ করেন। এই বিষ প্রয়োগের নেপথ্যে তার স্ত্রী জাদা বিনতে আল আসাদ, অপর একজন স্ত্রী এবং একজন দাসীর নাম উঠে আসে। হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) শাহাদাত বরণের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর রওজা মোবারকের পাশে কবর দেওয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে মসজিদে নববীর পাশে জান্নাতুল বাকী কবরস্থান হযরত ইমাম হাসান (রাঃ)-কে সমাহিত করা হয়।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url